Header Ads

সূরা মাউন আরবি, বাংলা উচ্চারণ, বাংলা অর্থ এবং তাফসীর

সূরা মাঊন


আরবি, বাংলা উচ্চারণ, বাংলা অর্থ এবং তাফসীর 


আরবি উচ্চারন বাংলায় অনেক সময় ভুল থাকে।তাই আপনাদের সবাইকে অনুরোধ করছি, যখন বাংলায় উচ্চারন শিখবেন তখন অবশ্যই আরবির সাথে মিলিয়ে নিবেন।

আরবি উচ্চারনঃ


সূরা মাউন



বাংলা উচ্চারণঃ


(বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম)

আরায়াইতাল্লাযী ইয়ুকাযযিবু বিদ্দীন। ফাযা লিকাল্লাযী ইয়াদু'উল ইয়াতীম। অলা ইয়াহুদদু 'আলা তা'আমিল মিসকীন। ফাওয়াইলুল্লিল মুছায়াল্লীন। আল্লাযীনাহুম 'আন ছালাতিহিম সাহুন। আল্লাযীনা হুম ইয়ুরা য়ুনা অইয়ামনা উনাল মা'ঊন।


বাংলা অর্থঃ

(শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু)

আপনি কি দেখেছেন, সেই ব্যক্তিকে যে দ্বীনকে মিথ্যা মনে করে? সে তো ঐ ব্যক্তি যে, এতিমকে ধাক্কা দেয়। এবং মিসকীনকে খাদ্যদানে উৎসাহিত করে না। অনন্তর ঐ নামায আদায়কারীর ধ্বংস, যারা নিজেদের নামায সম্বন্ধে উদাসীন, যারা লোক দেখানোর জন্য কাজ করে থাকে, সাধারণ জিনিস অন্যকে দান করা থেকে বিরত থাকে।


(তাফসীর)


আয়াতঃ ১ 

‘দ্দীন’ শব্দটি দুভাবে ব্যাখ্যা করা যায়ঃ ১) বিশ্বাস বা ঈমান যা হচ্ছে ধর্মের মূল ভিত্তি। এই ঈমান বা বিশ্বাসের মূল নীতি হচ্ছে বিশ্বাস করা যে, আল্লাহ্‌ আমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং আমাদের প্রতিপালক, আমরা তাঁর দাস। তিনি যা হুকুম করেছেন তা পালন করতে হবে কারণ তাই-ই হচ্ছে সত্য ও ন্যায় আর তিনি যা নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকতে হবে কারণ তা হচ্ছে পাপ ও অন্যায়।

সে ভাবে দ্বীন অর্থ ধর্ম বা ন্যায় ও অন্যায়ের সীমারেখা, যে সীমারেখা মানুষের স্বার্থপরতা ও পক্ষপাতমূলক ব্যবহারে বার বার লংঘিত হয়। ২) শেষ বিচারের দিনকে বিশ্বাস করা। বিশ্বাস করা যে, মৃত্যুর পরে আধ্যাত্মিক জগতে প্রবেশ লাভ ঘটবে যেখানে পৃথিবীর সকল কাজের দায়িত্ব সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করা হবে। মানুষ মুখে যাই-ই বলুক বা নিজেকে যত বড় ধার্মিক বলে প্রচার করুক না কেন তার আচরণ ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যাবলী বলে দেবে সে ‘দ্বীনের’ উপরে প্রতিষ্ঠিত কি না। যে অসহায় ও অভাবগ্রস্থকে ঘৃণা করে এবং তাদের দয়া ও সহানুভূতির সাথে ব্যবহার করে না সেই ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে ‘দ্বীন ‘ বা ধর্মকে অস্বীকার করে। 

আয়াতঃ ২ ও ৩ 

গরীব, দুঃখী, অভাবগ্রস্থ, এতিম বা সহায় সম্বলহীনদের জন্য আত্মোৎসর্গ করা স্বর্গীয় গুণাবলীর অর্ন্তগত। এই স্বর্গীয় অনুভূতির প্রকৃত স্বরূপ তারা কখনও অনুভব করতে সমর্থ হবে না যারা নিজেরা অন্যকে সাহায্য করে না,শুধু তাই-ই নয়, অন্যের মাঝে দয়া, মায়া, গুণাবলী প্রত্যক্ষ করলে তাদের নিরুৎসাহিত করে বা তাদের ঘৃণা করে। তাদের ধারণায় এসব গুণাবলী নয়, এসব হচ্ছে পৌরুষের অপমান। দুর্বলের ধর্ম। 

আয়াতঃ ৪ ও ৫ 

এবাদত ও সালাত বা নামাজ এক কথা নয়। সালাত বা নামাজ হচ্ছে এবাদতের অংশ। এবাদতের পরিধি বহু বিস্তৃত ও ব্যপক। যা ব্যক্তির সমগ্র জীবন ব্যপী বিরাজ করে। এবাদত শুধু মাত্র নামাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এবাদত হচ্ছে আল্লাহ্‌র ইচ্ছার পূর্ণ প্রতিফলন ব্যক্তির চরিত্রে। আল্লাহ্‌ যা হুকুম করেছেন তা উপলব্ধি করতে হবে এবং তা চিন্তায়, কথায় ও কাজে প্রতিফলিত করতে হবে।

সেই সাথে একান্ত আন্তরিকতার সাথে আল্লাহ্‌র সান্নিধ্য আত্মার মাঝে উপলব্ধির চেষ্টা করা হচ্ছে সালাত। সালাত হচ্ছে ব্যক্তির সমগ্র জীবনের এবাদতের প্রতিফলন। সুতারাং যারা মনে করেন পাঁচ ওয়াক্ত যান্ত্রিক ভাবে নামাজ আদায়ের মাধ্যমেই তারা দ্বীনের হুকুম পালন করেছেন তাদের জন্য আল্লাহ্‌ বলেছেন, “দুর্ভোগ”। আর যারা সালাত সম্বন্ধে সম্পূর্ণ উদাসীন তারা ঐ একই দুর্ভাগাদের কাতারে সারিবদ্ধ। সুতারাং সমাজের প্রতি, পরিবারের প্রতি, জাতির প্রতি, প্রতিবেশীর প্রতি কোনও কর্তব্য কর্ম না করে শুধু মৌখিক সালাতের মাধ্যমে কেউ আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারবে না। 

আয়াতঃ ৬ 

‘উহা ‘ অর্থ এ স্থলে ‘সালাত’। “বস্তুতঃ তারা যখন নামাজে দাঁড়ায়, তখন দাঁড়ায়, একান্ত শিথিলভাবে লোক দেখানোর জন্য।” আয়াত সমূহ থেকে এই সত্য স্পষ্ট যে তিন ধরণের লোকের নামাজ বা সালাত আল্লাহ্‌র নিকট গ্রহণযোগ্য নয়। 

১) যারা সমাজের জন্য কোন সৎ কাজ করে না, 

২) যারা সালাত সম্বন্ধে উদাসীন এবং 

৩) যারা মোনাফেক অর্থাৎ লোক দেখানোর জন্য নামাজ পড়ে। 

আয়াতঃ ৭ 

যারা মোনাফেক তাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য এই আয়াতে তুলে ধরা হয়েছে। মোনাফেকরা লোক দেখানো কাজ করতে ভালোবাসে। তারা আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে কোন কাজ করে না। তাদের চিন্তা ভাবনাতে একটাই উদ্দেশ্য থাকে আর তা হচ্ছে পরিচিত জনের নিকট সম্মানীয় হয়ে নাম যশঃ কুড়ানো। এদের পরীক্ষার একটি উপায় এই আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে।

প্রতিদিনের জীবনে আমাদের চারিপার্শ্বে বহু ঘটনা ঘটে যেখানে দেখা যায় প্রতিবেশী সামান্য সাহায্য প্রার্থী হলে বিমুখ করা হয়। চারিপার্শ্বে যারা থাকেন তাদের প্রতি সামান্য দয়া ও সহানুভূতি প্রদর্শনে তারা অপারগ হয়। এই সামান্য দয়া, সহানুভূতি ও সাহায্যের হাত প্রসারে সামান্যই ব্যয় করতে হয়। কিন্তু গ্রহীতার জন্য তা অনেক। এদের প্রতি আল্লাহ্‌ বলেছেন, ” যারা প্রতিবেশীর প্রয়োজনীয় ছোট খাট সাহায্য দানে বিরত থাকে।” কিন্তু এরা নিজেকে দাতা বলে প্রচার করতে ভালোবাসে এদের সকলের জন্য আছে দুভোর্গ।



Blogger দ্বারা পরিচালিত.